রোজ দুপুরে গুটিগুটি পায়ে এসে দাওয়াও পা ছড়িয়ে বসে পড়ে বেড়ালটা।
রোজাকার খাওয়ার সময়টা ওর জানা। সঠিক সময় এসে জুলুজুলু চোখে তাকিয়ে থাকে টেবিলের
দিকে।
বাড়ির কর্তা খেয়ে উঠলে বাসন তুলে নিয়ে যায় সর্বানী। কলতলা তে
নামিয়ে বাটিটা উল্টে দেয় পাশে। মুখে করে তুলে নিয়ে যায় বেড়ালটা। কিছুটা নিয়ে
গিয়েই খুঁটে খায় কাঁটায় লেগে থাকা মাছের শেষাংশ। তারপর খেতে বসে বাড়ির ছেলেরা,
তারপর
বাড়ির গিন্নি। প্রতিবারই চেয়ার সরানোর আয়াওজ পেলেই সজাগ হয়ে ওঠে বেড়ালটা।
প্রতিবারই তার কপালে জোটে রুই, কাতলা, ট্যাংরা, মৌরলা কিংবা পুঁটি। সর্বানী তাকিয়ে দেখে বেড়ালটা
স্বভাব। দেখে কি ভাবে পা টিপে চলে বেড়ালটা, কিভাবে চোখের কাছে থাকা খাবারও গন্ধ শুকে
খুঁজে নেয়, কিভাবে তাকিয়ে থাকে খাবারের দিকে।
বাড়ির সবার শেষে খেয়ে ওঠে সর্বানী। বারান্দায় বসে থাকে বেড়ালটা,
তাকিয়ে
থাকে থালার দিকে। শুধু খাবার শেষে চেয়ার সরানোর আওয়াজে লাফিয়ে ওঠে না। সর্বানীর
পায়ে পায়ে এগিয়ে যায়, বাটি উল্টে দিলে শুঁকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কল খুলে
হাত ধোয়ে সর্বানী, তাকিয়ে থাকে সাদা ধবধবে বেড়ালটা। হাত ধোয়া হলে চোখ বুজে একটা ম্যাও
বলে চলে যায় বাগানের দিকে। সর্বানী তাকিয়ে থাকে পরে থাকা চিবানো কাঁটাগুলোর
দিকে।
-
No comments:
Post a Comment