হামি পুরুলিয়ার রতন মাহাতো
হামি পুরুলিয়ার রতন মাহাতো।
প্যাটের টানে কাজ ছাড়া কিছুই বুজি লায়।
গিরামে শুনাছিলাম,
শহরে লাকি মেলা টাকা।
কাজ করলেই লাকি টাকা।
তাইতো বৌ আর ছমাসের বাচ্চাটারে
থুইয়া আসছি আবার রাজধানীতে।
মেলাজুনার সাথে আসে,
টেরেনটো ধরে দিল্লি আসে ছিলাম।
বড়ো বড়ো পাকা ঘরগুলান দেইখা,
মুর মুনে হইছেলো ,
উর ছাদে উঠে আকাশটা ছুব্বো।
ভালোই চলছেল ।
মুর গাঁয়ে মুন্ডলটোর বাড়িখ্যানে একখ্যান ফোন ছেলো ।
সেদিনই তো মুর পাখি কয়াছেলো,
মরদ তুই আসবি কবে?
মুর ভালো লাগেক লাই,
রাতের বেলা ভয়টো লাগেক।
হামি কয়াছেলাম,
ভয় পাসলা তাড়াতাড়িই আসবো।
মেলা টাকাই হইসে।
তোর লাগে একখান সিলিক এর শাড়ি লিবো।
মুখের ক্রিমটো লিবো।
তোর কালো গায়ে চান্দ ফুইটবে।
আমরণ! রাখি ক্যান, আইসো ক্ষণ।
উই তো লাজে কয়াছেলো।
ই গল্পতো ছমাসের আগের কথ্থা।
বিটিখ্যান মুর বড়ো হইসে,
মুর কৃষ্ণকলি আইজ পথ চায়ে।
হঠাৎ কুন বেপদ,
ভালো জানিনে, মুন্দ জানিনে।
দুক্বান বাজ্জ্বার বন্ধ হইলো।
টেরেনখ্যানও বন্ধ হইলো।
গুজবটোও রইটলো,
সবাইকে দেখেন মুইও হাটছি,
মাইল এর পর মাইল।
ই পথ জালে শেষ হয় লাই।
রাস্তার ঐ পাথর ভিতরে হামার
পায়ের রক্ত।
খিদার জালায় হামি ক্লান্ত।
সংসার ছাড়ি শহরে সব্বশান্ত।-
তনুজা খাতুন
সূচীপত্র
No comments:
Post a Comment