Thursday, May 18, 2017

অনুরণন রবীন্দ্র সংখ্যা, ১৪২৪


সম্পাদকীয়-র  বদলে...
 
"আমারো হবি মিউজিক লিসনিঙরবীন্দ্র সঙ্গীত ফেবারিট।"
বলেই মেয়েটি সুর ধরল,
"উ লা লা, উ লা লা, উ লা লা হে...
পাগলা হাওয়ার বাদলা দিনে..."

ছেলেটি মাথা চুলকিয়ে চুমুক দিল চায়েচোখ দুটো তাকিয়ে ছিল মেয়েটির বন্ধ চোখে





অনুরণন  ।।  সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

ধরো নিঃশব্দ প্রহেলিকার মধ্যে জন্ম হচ্ছে অক্ষরের,
বাসা হারানো পাখিদের মৃত্যুচেতনা পালকের মতো ঝরছে
নদীর নাব্যতা, গভীরতা না জানা দামাল ছেলেরা সাঁতার কাটতে
নেমে যাচ্ছে জলে
ধরো তুমি কোনো অনুরণন পেলে না, কিন্তু প্রতিটি শব্দ সুষমা
দ্বিচারিতা দেখে থম্ মেরে আছে অফুরান অনুরণনে দিন গুজরান
তাই বুঝতে পারো না
 
 
পঁচিশে বৈশাখ  ।।  মোনালিসা চৌধুরী

সহজ হলেও কিছু কিছু পাঠে জন্ম জড়িয়ে পড়ে,
জীবন যদিও বয়ে চলে যায় মরণ বহন করে
 
জন্মদিনের সুতো বাঁধা থাক আগামীর কলতানে
স্মৃতির সূত্র ব্যস্ত রয়েছে, আশা নেই সন্ধানে
 
পঁচিশের ডাকে বৈশাখ তাই কিছুটা কৌতূহলী
পালনীয় দিনে শুধুই স্মরণ, জল খোঁজে মেঘগুলি
 
মেঘেদের আজও যাওয়াই বাতিল চিরনূতনের ডাকে
কবির জন্মে সবুজ আসুক, প্রেমহীন বৈশাখে

 
অঞ্জলি  ।।  সুব্রত মণ্ডল

তুমি কেমন করে আজো জ্যোৎন্সা আনো
আগুনের পরশ মণি জ্বেলে

আমি শিশুর মতো পড়ে যাই
ব্যাথা পাই
তবু.......

আমি কি পারবো না নব নব তারা হতে
তুলে নাও প্রভু পাচীলের গায়ে ফোটা এই নাম না জানা ফুলকে
 
 
পঁচিশে বৈশাখে  ।।  প্রসাদ রায়
 
প্রাত্যহিকের গেরস্হালি নৌকাডুবির হাওয়ায় এলোমেলো৷
 
চারপাশের বিপন্নতা পথ ঢাকে
অন্ধকারে, দিশাজুড়ে কর্কটক্রান্তি
অক্ষরেরা কি ভুলে যায় তাদের ইচ্ছামৃত্যু?
 
তবু তোমার জন্মদিন অগোচরে রাখে অবিনশ্বর আলো,
স্মরণবেলায় বয় পরমায়ূ
জীবনের শিকড়ে শিকড়ে৷
 
 
বৈশাখের গান  ।।  গৌতম কুমার গুপ্ত
 
সাত সকালে পাখির ঠোঁট থেকে
ঝরে পড়ল বৈশাখীর গানের শিস
হে নূতন দেখা দিক...
নবজন্মের সূর্য্যকিরণে বিশ্বাসী আলো
তিমিরবিনাশী মহাপুরুষের ঐ ছায়াসুন্দর মুখ
এই বৈশাখে জন্মেঞ্জয় মৃত্যুপ্রহর রবি
 
 
তোমার সৃষ্টিতে আজও  ।।  তনুশ্রী মল্লিক
 
কবি তুমি এখনো আমার হৃদয়ের মনিকোঠায় সযত্নে রক্ষিত ,
তোমাকে জেনেছি তোমারই সৃষ্টির পাতায় পাতায়
অন্ধকার বুকের কোরকে রয়েছো আজো
কয়লা খনির মাঝে হীরক খন্ডর মতো
আজও তোমার গানে প্রাণ আকুল হয়
তোমাকে জেনেছি বিশ্বভারতীর শান্ত কুঞ্জে
আমার অবকাশের আড়ালে তুমি চলে আসো
ছাতিম তলার নির্জন দুপুরে
 
 
রবিসুর  ।।  মোর্তজা খোন্দকার
 
দীনতার আব্রু লুকোতে
প্রাণের কূটীরে যে করবীর বেড়া
তার পল্লবে পঁচিশে বৈশাখ আনে
ধূসর মুকুলেও মর্যাদা মহড়া
 
সে কি ঘনঘোর ভারত-রাত্রি ফুঁড়ে
গণমন তন্দ্রায় ফুটেছিল রবি,
যখনই গোখরো-কাল ভয়ার্ত প্রহর
অনন্ত আশ্বাসে তিনি বাজান পূরবী
 
 
পঁশিচে বৈশাখ  ।।  রাসেদুল হাসান রাসেল
 
বৈশাখ এলেই তুমি আসো
ছন্দ জাগরণে,
এসো হে বিশ্ব কবি
মহা বরণে
তুমি এসো আলো নিয়ে
বাজিয়ে ঢোল ঢাক,
তুমি বরণে,তুমি স্বরণে
আর পঁচিশে বৈশাখ
 
 
পঁচিশে বৈশাখ  ।।  মুহা: আকমাল হোসেন
 
তোমার জন্ম দিন মানে রুদ্র রৌদ্র ঝাঁঝ
তোমার জন্ম দিন মানে বৈশাখ আজ
 
তোমার জন্ম দিন মানে সূর্যের হিমালয়
তোমার জন্ম দিন মানে গীতাঞ্জলী, কিশলয়
 
এই দিনে কবিতার বাগানে অন্ততঃ একবার ঘোরা
আজ উদ্-যাপনে আছি কেবলি আমরা
 
 
শ্রেষ্ঠ কবি  ।।  প্রদীপ চৌধুরী
 
শ্রেষ্ঠ কবি রবি ঠাকুর, জগৎ জোড়া নাম
সীমার মাঝে অসীম তুমি, তোমার অফুরন্ত দাম|
একদিকে নয় কৃতি তোমার, তুমি সবের মাঝে থাকো
তোমায় দেখে এগিয়ে যাবো, কোথাও থামবো নাকো|
 
 
ঋণস্বীকার  ।।  সাগর মাহাত
 
রবীন্দ্রনাথ তুমি মোদের গর্ব
তোমার গানেই প্রথম পেলাম
আগুন জ্বালার মন্ত্র৷
 
তোমার কলমের ছোঁয়ায় জগৎ আলোকিত
সমস্ত বাঙালি আজ তোমার কাছে নত৷
 
যতদূরে যাই না কেন আছো হৃদয় জুড়ে
আজকের দিনে নিও তুমি প্রনাম ভক্তি ভরে৷
 
 
শুভক্ষণে  ।।  মফিদুল ইসলাম মোল্লা
 
তোমার মতো কবি আর আসেনি এই ভুবনে,
তাইতো তোমায় পড়ে মনে আমাদের ক্ষণে ক্ষণে
রুক্ষ এই জীবনে তুলেছিলে ছন্দের হিল্লোল,
তোমা বিনা নদী তার হারিয়েছে কল্লোল
কবিতার জগৎ আজ ঊষর মরুভূমি,
সান্ত্বনার মধ্যে আছো কেবল তুমিই-তুমি
গানের বাগে বুলবুলি গায়না আর গান,
রুদ্রবীণা হারিয়েছে তার সকল তান
আজি ২৫শে বৈশাখ তাই গাই তব জয়গান,
সারা জগতে বাঙালীর বাড়িয়েছ সম্মান।।
 
 
রবির আলো ঘোচায় কালো  ।।  ডঃ রমলা মুখার্জী 

রবির আলো ঝলসে ওঠে অন্ধ আঁধার মনে-
মরুভূমি মন, ধূ ধূ নির্জন, পায় সে মরূদ্যানে
শ্রান্ত ভূবন, ক্লান্ত জীবন, শ্রাবণ মেঘের দেখা -
রচনাবলীর পাতায় ছত্রে বাঁচার মন্ত্র লেখা

ধন্য জীবন, ধন্য সৃজন, ধন্য অরূপ মনন -
প্রতি ‌ক্ষণে শ্রদ্ধা - চেতনে রবিরে করি স্মরণ

এক প্রহরে রবি ‌- সাগরে শুধুই ভকাক স্নান...
প্রতি জন্মে, কর্মে মর্মে পাই যেন তাঁর স্হান
 
রবিকর  ।।  মলয় বিশ্বাস
 
এসেছিল নবরবি পূবের আকাশে
উদ্ভাসিল বাংলা মোদের যেমতি মা হাসে
তব শূন্য আসন আজ করিছে রোদন
জানি ভরিবেনা লেখায় পাঠকের মন
 
 
আমার রবীঠাকুর  ।।  প্রাণেশ ভট্টাচার্য্য
 
আমি যখন আনন্দিত প্রাণ
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি তোমার উপন্যাসে,
যখন আমি দুঃখে কাতর
আশ্রয় নিই তোমার কবিতার কোলে
 
আমার জীবনের ভাঁজে ভাঁজে
জড়িয়ে পড়েছ তুমি ও তোমার লেখনী
প্রত্যেক বোশেখের পঁচিশে অপেক্ষা করি
তোমার আসার অলৌকিক পথ চেয়ে


কবিগুরুর প্রতি  ।।  প্রেমময় ঝাঁপড়ী

অন্ধকারের প্রদীপ শিখা, তুমিই দীপ্তমান;
বাংলা মা কে ভালোবেসে করেছ তারই জয়গান
রবির তেজে পুষ্ট তুমি,নবীন চিরকালীন,
তোমায় ছুঁয়েই বাঙালী আজও হয়নি অস্তিত্বহীন
তোমার লেখায় মন ভরেনা প্রাণ কাঁদেনা এমন ক'জন আছে,
তোমায় ছাড়া শুধু বাঙালী কেন, সাহিত্য নিজেই কি বাঁচে?
জাতপাত-ভেদাভেদ মানোনি তুমি, করেছো মানবতার পূজা;
তুমিই তো আমার ধর্মগ্রন্থ, আমার জীবনপুরের রাজা
 
রক্ত করবী  ।।  মৃণালিনী ঘোষ
পাহাড়ের গায়ে ফুটে আছে
তোমার প্রিয় নন্দিনীর
রক্তিম অনুরাগের রক্ত করবী
বিশু খুঁজে বেড়ায়
আর
    নন্দিনী
      নন্দিনী ডাকে
রবি, তুমি কী মনে করেছিলে?
চৈতন্য হৃদয়, রাধা- কৃষ্ণ প্রেম
ভক্তি রসের আড়ালে করুন রসে।।
 
হে রবি  ।।  মো: মামুন পারভেজ

তুমি কবিতার মনে দিয়েছিলে প্রান,
সঁপেছিলে নিজ আত্মাকে
তাইতো তুমি বেঁচে আছো আজো,
কফির চুমুকের সত্যবাকে
তোমায় আজো খুঁজে পাই,
গোধুলির সব মেঘের মেলায়
তাইতো হারায় সন্ধা বেলায়,
তোমার কবিতার কেশের ছায়ায়

রবি  ।।  পরান জহির

বোশেখ আজও তোমার কথা
কানে কানে বলে
পরাণ মাঝে তোমার কীর্তি
বেড়ায় ছন্দ-তালে
হৃদয় মাঝে আসন পেতে
লুকাও হৃদয়পুর
চির অমলিন নামটি তোমার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


কবিগুরু  ।।  শবনম খাতুন

নির্জনতার স্তব্ধ পাহাড় যে ছন্দে বানায়,
বিরহ বেলায় প্রেয়সীকে যে সুরে কাঁদায়...
অক্ষর গুলি যার জীবন্ত বারুদের ন্যায়,
যে 'সহজ পাঠে' শৈশব হয়েছিল আনন্দময়,
তিনিই আমাদের কবিগুরু, তিনি বর্ণময়।।
আমার পাশে তখন... গীতাঞ্জলি-
একটা তাজা বুলেটের মতোই
 
রবি-চিন্তা  ।।  সুজিত মান্না
রবীন্দ্রনাথ আসলে একটা অনুভূতির নাম
চুপচাপ বসে থেকে সাড়াশব্দহীন, এলোমেলো ভাবে
আমরা আমাদের ভাঙাচোরা মনগুলোকে সাজাই
উত্তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরে
মনে পড়ে রবিঠাকুরের পুকুর্বর্ণনা
এমনি করেই এখন ঘরের মধ্যে রবি-চিন্তা মাথায় রেখে
রোজ রোজ কবিতা জন্ম নেয়
অথচ দেখো দিনদিন ছটফট করছে রবিমূর্তি রাস্তার মোড়ে

এই শুভ দিনে  ।।  বলাই দাস
রবিঠাকুর গো বহুদিন পর স্বপ্নে এলে
চিত্তমাঝে ভাবনা গুলো ডানা মেলে
এই শুভ দিনে আমরা সবাই মিলেমিশে
তোমার জন্মদিন পালন করি দারুন হরষে
কবিতা গান নৃত্যানুষ্ঠান গল্প ও কথায়
যার যেমন সাধ্যমতো যা আসে মাথায়
তোমার পায়ে পুষ্প দিয়ে প্রণাম সবাই করি
জাতীয় সঙ্গীত গাই সকলে  দোলে হৃদয় তরী

রবি কবি  ।।  হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালবেলা দ্বার খুলতেই
শরীরজুড়ে রবি
ছড়িয়ে রবি
জড়িয়ে রবি
আশার রবি
ভাসার রবি
এই রবিটাই আমার প্রাণের
আমার রবি কবি

আমার রবি  ।।  সোমালিয়া

রবির হাত ধরে শৈশব, কৈশোর-যৌবনে দিই পাড়ি
আজও জীবনের মধ্য গগনে তাঁরই স্পর্শ অনুভব করি
রবি আমার প্রথম ভালোবাসা, মোর পথ ভোলা পথিক
তাঁর সুরের পরশে পূর্ণ আমি, জীবন রসে রসিক
কবির জন্যে একটি জীবন
নিলাম তুলে হাতে
মনের মনিকোঠায় রাখব তারে, রাখব নয়ন পাতে
সুর-তাল-ছন্দ-লয়-এর বাঘবন্দী খেলায়-
কবি থাক আপন মাঝে জীবনের অবেলায়
 
প্রাণের কবি  ।।  সুব্রত ব্যানার্জ্জী
অবচেতনের আড়ালে সেই রূদ্ধদ্বারে
তোমারই পদধ্বনি শুনি বারেবারে
শব্দ আর সুরের যুগল বুননে
প্রাণের আরাম মনের মিলনে
হে বিশ্বকবি আমি প্রণমি তোমারে
 
বাউল  ।।   জগন্নাথদেব মন্ডল

তোমার নিশিতে পাওয়া চোখের দিকে তাকাই
সন্ধ্যে হলেই জোনাকিরা তোমার আলখাল্লা ঘিরে ধরে
মাটির  দাওয়ায় নামিয়ে রাখি নশ্বর জীবন
গানের পাশি বসি
গাওয়ার সময় তোমার কাশির দমক এসে যায়
রাত্রি নামে আলপথে আর তুলসীতলায়

চারপাশে  ।।  অনুপ ঘোষাল

চারপাশে -
ট্যাঙ্ক আর গুলির অহঙ্কারী উপস্থিতি-
রাত আরও গভীর হলে -
কারা যেন কানাকানি করে... সীমান্তের শিরদাঁড়ায়...
আমার পাশে তখন... গীতাঞ্জলি -
একটা তাজা বুলেটের মতোই

 **** শিরোনামহীন ***
রবির কিরণে ভেলাটি ভাসিয়ে,
বেয়াদব মন এসেছে শাসিয়ে,
শব্দ সকল হয়ে জবু থবু,
কবিতার রুপ পেল না তো কভু
হাই মোর প্রিয়া
আসিলে কি দেখিয়া!
নির্জন মন,
রহিল গোপন
দীপ দাস
 
দূরে বনরাজী নীল আকাশ ছুঁলো কবি
প্রতিটি পরোতে পরোতে তোমার স্পর্শ
আরো আরো এমনি করেই মরে বাঁচি
সূর্য, চন্দ্র তারা ভরে রয়েছে পাতার ওপরে
কাজল চোখে জীবন...
তোমার ব্যথা কখন যেন মিশে গেছে
অশ্রু নদীর পারাপার...
ক্ষুদ্র আমি বৃথা চেষ্টা করি
জানাতে প্রণাম
নিবেদিতা মজুমদার


একলা থাকার মুহূর্তরা, শব্দবিহীন ক্ষণ,
অলস দুপুর, বিষাদবেলায় হঠাৎ উদাস মন
পাড়ে নাহয় নাইবা গেলাম, মাঝগাঙেতেই রই,
থাক পড়ে সব, মিথ্যে মায়া, মেকি কথার খই
তারচে' বরং একলা একাই গাই নূতনের গান,
ভেজাক আবার সুরের ধারায়, গীতবিতান
গঙ্গাজলেই গঙ্গাপুজো, সাধ্য আমার এই,
রবিঠাকুর, ফিরে আবার চাইছি তোমাকেই
রুপম ভট্টাচার্য

রবির কিরণে প্রজ্জ্বলিত আমরা
ধরায় তুমি অধরা
অনুভবে উপস্থিত সর্বদা
তাই চিরন্তন তুমি পেরিয়ে কালের বাঁধা
নিশাত তামান্না



রবির আলোয় ।। জয়িতা দে সরকার

মূল মঞ্চ থেকে কিছুটা দূরে আরও একটা মঞ্চ!
সদ্যজাত শিশুকান্নায় ভেসে যায় সুখ নৌকা
অন্য মঞ্চে তখন নিশির ডাক! শোক।

রবিঠাকুরের গানে পালিত হয় জরা

শৈশব মেতে ওঠে অমলের ঘ্রাণে
ফ্রক পরা মিনি আজও খোঁজে
পরিযায়ী কাবুলিওয়ালা চোখ

প্রেমে তুমি চারুলতা
উল্লাসে ভেসে যাওয়া খোলা হাওয়া
পাল তোলা নৌকা

গ্রামোফোনে নস্টালজিয়া সুর
সাজায় তোমার কালো-সাদা ছক কাটা
লম্বা বারান্দা
উনি ঝুলে থাকে দেওয়ালে
মালা পায়,পূজা পায়
জয়ন্তীতে নয় ভগবান বেঁচে থাকে
আকাশে আর আমাদের আসনে।
         ***         
অনুরণন বইমেলা সংখ্য়া ২০১৭ এর জন্য স্বরচিত কবিতা, অণু-গল্প, গল্প, প্রবন্ধ ও বিবিধ রচনা নেওয়া শুরু হবে আগষ্ট, ২০১৭ থেকে। আপনাদের সহযোগীতা আমাদের পাথেয়।
অনুরণন ইমেল- onuronon.amu@gmail.com
অনুরণন ফেসবুক পেজঃ Onuronon-অনুরণন
অনুরণন ফেসবুকঃ Onuronon Patrika
***




প্রাণের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ  ।।  জয়িতা ভট্টাচার্য
 
বাঙালীর লোহিতকণায় বাহিত রবীন্দ্রনাথের গানআমার মনে হয় বাঙালী জাতি অপূর্ণ থাকত রবীন্দ্র সঙ্গীত ও সাহিত্য ছাড়া ভাবতে আশ্চর্য লাগে কী অসীম প্রতিভা থাকলে একজন মানুষ অতি শোক, তীব্র সমালোচনা, পারিবারিক মৃত্যু মিছিলকে সহ্য করেও হাজার হাজার গান ও কবিতা সৃস্টি করে যেতে পারেননারী মনের গোপন কথাটি, ছোট্ট শিশুর ইচ্ছেগুলোর কথা বা প্রকৃতি এবং প্রেমের গানগুলি এই অন্তর্জালের যুগেও আমাদের যে কোনো অনূভুতিতে সা়থী হয়ে যায় অনায়াসে
পরিনত ও সুশিক্ষিত মানুষ মাত্রই জানেন তাঁর উপন্যাস গুলি যেমন গোরা’, ‘যোগ বিয়োগ’, এবং নৌকাডুবি’-র মত রচনাগুলি সমাজের প্রতি তাঁর গ়়ভীর বীক্ষণ রচনাগুলোকে কালজয়ী করে তুলেছে
তাঁর ছোটো গল্পে ও উপন্যাসে দেখি সমকালীন প্রথা ভঙ্গ করে তিনি আধুনিকতার পূজারী
রবীন্দ্র নাটক তৎকালীন সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেপ্রসঙ্গত "রক্তকরবী" এমন একটি রাজনৈতিক নাটক যা সর্ব যুগে যথার্থ
সামাজিক তৃণমূল স্তরে লোকশিক্ষার প্রচার, রাখীবন্ধন উৎসব, নাইটহূড ত্যাগ তাঁর দেশপ্রেমের নির্ভিক প্রয়াসতাঁর স্বদেশ পর্যায়ের গানগুলি যদি এখনও বিশেষ ভাবে নানা প্রচার মাধ্যমগুলিতে ব্যবহার হতো দেশভক্তি বোধহ়য় আজ তবে খেলার মা়ঠেই সীমাবদ্ধ থাকত না
রবীন্দ্রনাথের অ়ভিনব ও সুর্রিয়ালিস্টিক চিত্র গুলি ও পোট্রেট পুনরাধুনিক সাহিত্য মনে করা়য়সম্ভবত তিনিই প্রথম দাদাইসম্ ও পরাবাস্তব ভাবনাকে ভারতের চিত্র শিল্পে প্রবর্তন করেনবিশ্বমানের এই ছবিগুলি আজ সমাদৃত সমস্ত সভ্য দেশগুলিতে ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে
বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহের চিন্তা, দ্বারকানাথের ঋণ শোধ, পারিবারিক ব্যাবসাকেও সঠিক পরিচালনার দ্বায়িত্ব বহন করেছেন তিনি
শিক্ষা ব্যবস্থা়য় তাঁর যুগান্তকারী ভাবনা, মুক্ত পরিবেশ কে সম্পৃক্ত করে শিক্ষাদান ছাত্রদের মননে বিশেষ সহায়ক সেই বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা ভাবনাও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপশান্তিনিকেতন আজ বিশ্বের দরবারে এক অভিনব শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান
রবীন্দ্রনাথ জীবিতকালে তাঁর লেখার পূর্ণ স্বীকৃতি পাননি, কখনো সমলোচিত হয়েছেন  তবু তাঁর সৃষ্টি নিরন্তর জগতকে উপহার দিয়ে গেছে অবিস্মরনীয় সব শিল্পকর্মতাঁর মৃত্যুর পর যত দিন গড়িয়েছে তিনি ততই অপরিহার্য হয়ে উঠছেন আমাদের জীবনে
প্লুরালিসম্-এ বিশ্বাসী মহাকবি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আরোহণ করে এনেছেন সুর, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিনানা পরীক্ষামূলক সৃষ্টি যেমন ভানুসিংহের পদাবলী’, নতুন তাল সৃষ্টি ও নৃত্যশৈলী সমৃদ্ধ করেছে বঙ্গ সংস্কৃতি কে
বাল্মীকি প্রতিভার সেই অপরূপ পুরুষ আমার প্রথম ও চিরকালের প্রেমিকআমার গুরুদেব, সহস্র কোটি বাঙালির প্রাণের ঠাকুরজন্মতিথি নয় তিনি প্রতিদিনের আরাধ্য দেবতা

***

অনুরণন বইমেলা সংখ্য়া ২০১৭ এর জন্য স্বরচিত কবিতা, অণু-গল্প, গল্প, প্রবন্ধ ও বিবিধ রচনা নেওয়া শুরু হবে আগষ্ট, ২০১৭ থেকে।
আপনাদের সহযোগীতা আমাদের পাথেয়।

অনুরণন ইমেল-
onuronon.amu@gmail.com
অনুরণন ফেসবুক পেজঃ Onuronon-অনুরণন
অনুরণন ফেসবুকঃ Onuronon Patrika
***


বিশ্বকবি ও একটি দেওয়াল পত্রিকা  ।।  অমিতাভ দাস
 
তিনজন সেদিন রকে বসে রাতের সাথে সাথে হতাশাও বাড়ছে পাড়ার ক্লাব এর কালীপুজোর দিন একটা দেওয়াল পত্রিকা বের করার কথালেখাও নেওয়া হয়েছে কয়েকজনেরউদ্যোগ প্রধানত তিন বন্ধুর বাকিরা বলেছিল “ভাল উদ্যোগ চালিয়ে যা।” অথচ একটু আগে পুজো কমিটির সেক্রেটারি জানিয়ে গেল, “কিছু মনে করিস না ভাই, প্যান্ডেলের যে দিকটা তোরা দেওয়াল পত্রিকা ঝোলাবি ঠিক করেছিলি সে দিকটা সূতোর কাজ হবে আসলে পুরোটাই সূতোর কাজ হচ্ছে তো... তার মধ্যে এসব পত্রিকা কেমন যেন...।” এ কথা শোনার পর প্রথমে মনে হল জ্বালিয়ে দিই প্যান্ডেল তারপর অদ্ভুত এক হতাশা গ্রাস করতে লাগলো
রাতে বাড়ি ফিরে কিছু না খেয়েই ঢুকে গেলাম শোয়ার ঘরে বুকে জমে আছে অনেক অভিমান, একরাশ কান্নাহঠাৎ চোখ পড়ল পড়ার টেবিলে রাখা গীতবিতানটার ওপর মন কে শান্ত করতে ওল্টাতে লাগলাম একটার পর একটা পাতা এরই মধ্যে চোখ আটকে গেল একটা গানে “বাংলার মাটি বাংলার জল”, ভেসে উঠল কয়েকটা দৃশ্যকবি বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, সকলের মুখে মুখে এই গান, হাতে হাতে রাখী, আর কবি চোখে চোখ রাখছেন দুর্দান্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথেমনের বারুদে যেন আগুনের স্ফুলিঙ্গ লাগলো
পরদিন সকাল হতেই ছুটলাম বাকি দুই বন্ধুর বাড়ি, কিছুতেই এভাবে হার মানব নাযেভাবেই হোক দেওয়াল পত্রিকা বের করতেই হবেএক বন্ধু বলল, “চল শ্যামাদাদুর কাছে, শুনেছি উনি এসব ভালোবাসেন।” গেলাম ওনার কাছে উনি বললেন, “পাড়ার প্রতি বাড়িতে গিয়ে ব্যাপারটা জানাও।”
   হ্যাঁ শেষ পর্যন্ত বেরিয়েছিল পত্রিকাটাপাড়ার কয়েকজনকে নিয়ে গিয়েছিলাম সেক্রেটারি মহাশয়ের কাছে উনিও তেঁতো ওষুধ গেলার মতো মুখে মানতে বাধ্য হয়েছিলেন দেওয়াল পত্রিকার গুরুত্বছোট্ট হলেও শুভ শক্তির হয়ে একটা লড়াই জিততে পেরেছিলাম, কারন বুকের মধ্যে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ

***
অনুরণন বইমেলা সংখ্য়া ২০১৭ এর জন্য স্বরচিত কবিতা, অণু-গল্প, গল্প, প্রবন্ধ ও বিবিধ রচনা নেওয়া শুরু হবে আগষ্ট, ২০১৭ থেকে।
আপনাদের সহযোগীতা আমাদের পাথেয়।
অনুরণন ইমেল- onuronon.amu@gmail.com
অনুরণন ফেসবুক পেজঃ Onuronon-অনুরণন
অনুরণন ফেসবুকঃ Onuronon Patrika
***

মূহুর্তঃ অনুরণন দ্বিতীয় সংখ্যার আত্মপ্রকাশ, ২০১৬
---------------------------------------------------------------------
সম্পাদক, কাইকুবাদ আলী, কর্তৃক আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড়, উত্তর প্রদেশ-২০২০০২ থেকে প্রকাশিত


 

1 comment: